লক্ষ্মীপুরের মসজিদের মুসল্লীদের মানববন্ধন করান বিতর্কিত চেয়ারম্যান

মো. ফয়েজ, লক্ষ্মীপুরঃ
শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে আসেন এলাকার মুসুল্লিরা। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মুসুল্লিদের মানববন্ধনে দাঁড় করিয়ে দেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের বিতর্কিত চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়ালের অনুসারীরা। অভিযোগ রয়েছে বির্তকিত এ চেয়ারম্যান টাকা দিয়ে নিজের পক্ষে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন।

সম্প্রতি আমির হোসেন নামে স্থানীয় এক কৃষককে বর্বর নির্যাতনের দায়ে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে এমন সাজানো মানববন্ধনের আয়োজন করেন বলে অনেকেই দাবী করেন। বিতর্কিত চেয়ারম্যান হাতে নির্যাতি। [/caption/]

দুপুরে জুমার নামাজের আগে এলাকার মসজিদগুলোতে গিয়ে চেয়ারম্যানের ছেলে এবং অনুসারীরা মুসুল্লীদের মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার জন্য বলে আসে। নামাজ শেষ হওয়ার পর পরই মজুচৌধুরীর হাট সংলগ্ন একটি মসজিদের সামনে কয়েক মিনিটের মানববন্ধনে অনিচ্ছাকৃত অনেক মুসুল্লিকে মানববন্ধনে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানবন্ধনে চেয়ারম্যানের আস্থাভাজন ইউপি সদস্যরা, দলীয়কর্মী এবং তার অনুসারীরা বক্তব্য দেন। চেয়ারম্যান ছৈয়ালের বিরুদ্ধে কৃষক নির্যাতনের যে মামলাটি হয়েছে সেটিকে মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক মামলা হিসেবে দাবী করেন।

যদিও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একখন্ড জমি বাগিয়ে নিতে ইউসুফ ছৈয়ালের নির্দেশে চুরির অপবাদ দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে কৃষক আমির হোসেন উপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছেন। এতে অংশ নেন ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের আরেক বিতর্কিত ইউপি সদস্য মো. স্বপন ও তার অনুসারীরা। এ নিয়ে এলাকাবাসীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা দিলেও চেয়ারম্যান ও মেম্বারের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

পুরো ইউনিয়ন নিজের কব্জায় রেখে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে ছৈয়াল। চেয়ারম্যান বাহিনীর বিরুদ্ধে চরে এবং নদীতে দস্যুতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। জেলেদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। এছাড়া ছৈয়াল ও তার ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে আইনে মামলা করেন তার পূত্রবধু।

জেলেদের চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তার দুই ঘনিষ্টজনকে আটকও করা হয়। নদীতে অপহরণের অভিযোগে চেয়ারম্যানের ভাতিজাসহ তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।

এতো কিছুর পরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন প্রদক্ষেপ না নেওয়ায় দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছৈয়াল। অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে এবং রাজনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে সবকিছু ম্যানেজ করেন তিনি।

এদিকে, কৃষক আমির হোসেনকে নির্যাতনের ঘটনায় চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তারা এখনো আটক না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে হাতাশ বিরাজ করছে। মামলার এজাহারভূক্ত আসামী হয়েও এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে অভিযুক্তরা। তবে এ ঘটনায় জুলহাস, দেলু মুন্সী ও সাইজ উদ্দিন নামে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ২৩ আগষ্ট রাতে চর আলী হাসান গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর পুত্র কৃষক আমির হোসেন বাড়ি যাওয়ার পথে তাকে স্থানীয় লোকজন দিয়ে আটক করান ইউপি চেয়ারম্যন ছৈয়াল। পরে তার অনুসারীরা আমির হোসেকে গাছের সাথে বেঁধে চোর আখ্যা দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায়।

এ ঘটনার পর চেয়ারম্যান ও মেম্বার নির্যাতিত আমির এবং তার পরিবারের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে চেড়ে দেন। গত ১ সেপ্টেম্বর আমির হোসেন চেয়ারম্যান ছৈয়ালকে প্রধান ও মেম্বার স্বপনসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন। এতে আরও ৭/৮ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়।

পুলিশ এজাহারভূক্ত তিন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে চেয়ারম্যান এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানায় এলাকাবাসী ও ভূক্তভোগী কৃষক পরিবার