জেলখানায় বসেই শীর্ষ সন্ত্রাসী মুকুলের সহযোগীতায় কুষ্টিয়া জেলায় ত্রাসের রাজত্ব চালাচ্ছে জেড এম সম্রাট

বিশেষ ক্রাইম প্রতিবেদক:-
কুষ্টিয়ার জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী চরমপন্হী নেতা অপরাধ জগতের গড ফাদার গনমুক্তি ফৌজ এর অন্যতম নেতা মুকুলের শীর্ষসহযোগী মাদক , অস্ত্র,চোরাচালান, টেন্ডারবাজী, সহ একাধিক মামলার আসামী কে এই জেড এম সম্রাট।

জেড এম সম্রাট কুষ্টিয়া পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর শাহানাজ সুলতানা বনির পুত্র। শহরের কমলাপুর এলাকায় তার বাড়ি। ছোটবেলা থেকেই বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত সম্রাট। ২০০৪ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কুষ্টিয়ার ত্রি বার্ষিক সম্মেলন কুষ্টিয়া পৌর ১ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতির পদ পায় সম্রাট।

পরবর্তীতে ২০০৬ সালে আবারো ত্রি বার্ষিক সম্মেলনে জাতিয়তাবাদী ছাত্রদলের জিয়ার আদর্শের সৈনিক হিসেবে ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করার জন্য পূনরায় তাকে সভাপতি পদে বহাল রাখা হয়। বিএনপির সংগঠন ছাত্রদলের নেতা হওয়ায় তৎকালীন সময় থেকেই সম্রাট মাদক ব্যবসা,চোরাচালান,অস্ত্র ব্যবসা সহ গনমুক্তি ফৌজ এর নেতা মুকুলের নেতৃত্বে কুষ্টিয়ায় বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালনা করতো।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার ভয়ে সীমান্তের ওপারে ভারতে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসী মুকুল। মুকুল পালিয়ে গেলেও থেমে নেই তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। বর্তমানে সড়ক ও জনপথ, গণপূর্ত, এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ প্রায় সব সরকারি দপ্তরের কাজই দেশের বাইরে বসে জেড এম সম্রাটের মাধ্যমে সরকারী কর্মকর্তাদের হুমকি ধামকি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে মুকুল।

তারপর ২০১৬ সালে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৬ রাউন্ড গুলিভর্তি ম্যাগজিনসহ ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় জেড এম সম্রাট এবং সেই মামলায় ২০১৭ সালে ১০ বছরের কারাদণ্ড হয় সম্রাটের। জেল থেকে বেরিয়ে পুনরায় সম্রাট কুষ্টিয়া শহরে ফেনসিডিলের ব্যবসা ও অবৈধ অস্ত্র বহন করে কুষ্টিয়ায় টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীমুলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এই ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য সম্রাট উঠতি বয়সী মাদকে আসক্ত বিভিন্ন এলাকার ছেলেদের দিয়ে।

জানা যায় এই কাজে নিয়োজিত ছিল প্রায় ডজন খানিকের বেশি সম্রাটের বেতনভুক্ত কর্মীবাহিনী। বেতনভুক্ত কর্মীবাহিনী দিয়ে প্রতিদিন ইয়াবা, ফেন্সিডিল এবং অস্ত্রের বড় বড় চালান কুষ্টিয়া সহ দেশের কয়েকটি জেলায় পরিচালিত করতো। বেশ কিছুদিন আগে সম্রাটের জন্মদিনে মালেশিয়ায় লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসী মুকুলের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্স করে বড় আকারে ধুমধাম করে জন্মদিনের পার্টি করেছেন সম্রাট বলেও বিশ্বস্থ সুত্রে জানা যায়।

এই সম্রাট বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের নাম এবং ছবি ব্যবহার করতেন ও লাইভে এই সব বড় বড় নেতাদের এনে ভার্চুয়াল আলোচনা করেছে অনেক বার বলেও জানা যায়।

গত ২৬ জুলাই ২০২০ ইং তারিখে ৩টি বিদেশি পিস্তল, ৩টি ম্যাগজিন ও ৯ রাউন্ড গুলিসহ র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হয় সম্রাট এবং তার সহযোগী দ্বীন ইসলাম। সম্রাট র‍্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম নিয়েছে। জানা যায়, সম্রাট জেলখানার ভিতরে বসেই মালয়েশিয়ায় পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসী মুকুলের সহযোগীতায় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এঞ্চলে তার সহযোগী দিয়ে এবং নিজেও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হুমকি ধামকি দিয়ে জেলার ত্রাসের রাজত্ব করছে। বারবার এত কুকর্ম করার পরেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় সম্রাটের মতো সন্ত্রাসীরা।

এদের মদদ দাতা সহ সম্রাটের মত সন্ত্রাসীদের দেশ থেকে নির্মূল করার জন্য কুষ্টিয়াবাসী প্রশাসনের উচ্চ মহলের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন।